পৃষ্ঠাসমূহ

শুক্রবার, ৩ জুন, ২০১১

ক্রুদ্ধসংগীত

 

মনের এই ক্যানভাসে যে  ছিল পাতাজুড়ে

কী আশার আকর্ষণে ছুটেছে আজ  বাঁধন ছিঁড়ে

পড়ে যে রইল পিছে আবেগ সে এক ভবঘুরে

কিসের ওই বড়াই  যে তার সবই যাবে ধুলোয় মিশে  

কখনও বোঝেনি সে   সব আভরণ পড়বে খসে

দেখবে সবাই তারে চিনবে তারে ভালো  করে


দেখবো তখন তোরে ফিরিস কি তুই আমার তরে

সোমবার, ৯ মে, ২০১১

আমাদের রবীন্দ্রনাথ

 

রবীন্দ্রনাথ আমাদের কে? একটা সময় এই প্রশ্নটা বারবার মনের মধ্যে ঘুরপাক খেতো। ছোটোবেলা থেকেই দোতলার বারান্দায় তাঁর একটি ছবি টাঙানো থাকতে দেখতাম। পরে শুনেছিলাম ওটি আমার পিতামহের আমলের। খুবই অদ্ভুত লাগতো, একজন সম্পুর্ণ অচেনা ব্যাক্তি যার সাথে আমাদের পরিবার এর কোনও সম্পর্ক নেই, তার ছবি কিভাবে এত যত্ন সহকারে এতদিন ধরে (পিতামহের  মৃত্যু ১৯৪৮ সালে) রাখা আছে। ছবির নিচে পিতামহের হস্তাক্ষ্যরে কবির একটি গানের দুটি লাইন আমার মনে আছে।

“নয়ন সমুখে তুমি নাই
  নয়নের মাঝখানে নিয়েছ যে ঠাঁই”

বড় হওয়ার পর কথাটার মানে বুঝতে পারলাম। প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে প্রতিটি জীবের দেহ নশ্বর। কবিরাও এর ব্যাতিক্রম নন। কিন্তু কখনও কখনও জীবের সৃষ্টি এই নিয়ম কে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে অমরত্ব লাভে সক্ষম হয়। সমগ্র বিশ্বে অল্পসংখ্যক কিছু মানুষ এই বিরল কৃতিত্বের অধিকারী। রবীন্দ্রনাথ তাঁদের মধ্যে অন্যতম, সম্ভবত তাঁদের থেকে কিছু বেশী।

রবীন্দ্রনাথ এমন একজন মনিষী যিনি শুধুমাত্র তাঁর সাহিত্যকর্মের মধ্য দিয়ে বিখ্যাত নন। সুদূর পাঞ্জাব এর জালিয়ানওয়ালাবাগ কাণ্ডের প্রতিবাদে তিনি ত্যাগ করেন তাঁর নাইটহুড, বৈদিক তপোবন এর ন্যায় শান্তিনিকেতনে গড়ে তোলেন ব্রহ্মচর্‍যাশ্রম, বীরভূম জেলার গরিব মানুষদের স্বনির্ভর করে তোলার লক্ষ্যে তাদের কুটিরশিল্পের শিক্ষ্যা দেন। শান্তিনিকেতন আজও সমগ্র বিশ্বের কাছে ভারতবর্ষের গর্ব। সেখানে আমাদের দেশের সাথে সাথে জার্মানি, জাপান চীন ও আরও বিভিন্ন দেশ থেকে ছাত্র-ছাত্রীরা বিভিন্ন বিষয় এর পাঠ নিতে আসে। বীরভূম এর লাল মাটি হয়ে ওঠে বিশ্বসংষ্কৃতির মিলনক্ষেত্র।

 

tagore_1890_london

এবার আসা যাক তাঁর সাহিত্যপ্রসঙ্গে। রবীন্দ্রনাথ সারাজীবনে লিখে গেছেন উপন্যাস, কবিতা, গান, নাটক, ছোটগল্প, রম্যরচনা, প্রবন্ধ। এমনকি তাঁর লেখা চিঠিপত্রও সাহিত্যিক গুণমানে মণি মানিক্যের সমান। আজ  তাঁর মৃত্যুর ৭০ বছর পরও তাঁর সৃষ্টি অমলিন। আজও রবীন্দ্রসঙ্গীত ছাড়া কোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ভাবাই যায় না। আজও কোনও শিল্পীর মাপকাঠি হল রবীন্দ্রসঙ্গীতে তাঁর পারদর্শীতা। অবাক হয়ে যাই যখন দেখি আমার ৩ বছর বয়সী বোন রবীন্দ্রসঙ্গীত এর তালে তালে নেচে ওঠে।
আমার বুক গর্বে ভরে ওঠে যখন দেখি ক্রিকেট বিশ্বকাপে ভারত ও বাংলাদেশ এর খেলোয়াড়রা একই কবির লেখা জাতীয়সঙ্গীত গেয়ে ওঠেন।
তাঁর মৃত্যুর এত বছর পরেও তাঁর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা নিয়ে রাজনীতিকরা প্রতিযোগিতায় মেতে ওঠেন।

অতএব রবীন্দ্রনাথ আমাদের জীবনের সাথে মিশে গেছেন, আজ তাঁকে আমরা চাইলেও অস্বীকার করতে পারিনা। সম্ভবত আজ থেকে কয়েকশত বছর পরেও হয়ত পারব না। আজ বুঝতে পারি রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও রবীন্দ্রনাথ ধর্ম-শ্রেণী নির্বিশেষে সকল বাঙালির আত্মীয়।
তাই রবীন্দ্রনাথ নিজেই বলেছেন

                           
     ”সকল খেলায় করবে খেলা এই আমি
                                  কে বলেগো সেই প্রভাতে নেই আমি”

মঙ্গলবার, ২৬ এপ্রিল, ২০১১

আমার মেঘলা আকাশ,
আনমনা মণ,
নিঝুম নিঝুম শব্দ.........
এই জীবনে তাকে পেয়ে ,
খুশি কে করেছি রপ্ত

মেঘের মাঝে রোদের খেলা,
বৃষ্টির আনা গোনা ,
মনের মাঝে করেছি তোমারে,
আমার মনের সোনা ।

কি লিখবো র ভেবে না পাই,,
এই বৃষ্টি কে আমি চাইলাম ,
এই স্মৃতির মাঝে, মনের ঘরে,
তারেই মনে আঁকলাম.........

সোমবার, ২৫ এপ্রিল, ২০১১

তোর
মতন
বন্ধু কে মনে রাখা যায়.............

শনিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০১১

নতুন অতিথি

 

আজ এই ব্লগ এ পোস্ট করার জন্য আমার ৩ ঘনিষ্ঠ বন্ধু কে আমন্ত্রন জানালাম। অর্ণব আমার স্কুল এর বন্ধু এবং স্কুল এ পড়ার সময় থেকে সাহিত্য সৃষ্টিতে পারদর্শী। কৌশিক হল কবির অনলাইন লড়াই এ আমার সঙ্গী এবং আমার খুব ভাল বন্ধু। তন্ময় এর সাথে আজ অবধি মুখোমুখি দেখা হয়নি। তবে ফেসবুক এ ওর কিছু লেখা পড়েছি। আমার মত পাগলাটে হলেও লেখার গুণগত মান সত্যি ভাল।

মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০১১

শুক্রবার, ২৭ আগস্ট, ২০১০

হিন্দুদের গণিতচর্চা

গণিত কথাটির অর্থ হল গণনা সম্পর্কীয় শাস্ত্র।এটি বিজ্ঞানের অন্যতম প্রধান শাখা।ভারতবর্ষে গণিত এর চর্চা সেই বৈদিক যুগ থেকে হয়ে আসছে।বৈদিক মনীষীগণ দ্বারা গণিতের পরিপূর্ণ চর্চাই ভারতবর্ষের জ্যোতির্বিজ্ঞানকে উৎকর্ষের শিখরে উঠতে সাহায্য করেছিল বলে মনে করা হয়।বৈদিক যুগে গণিতের ভিত্তি বেদে বর্ণিত ১৬ টি সূত্র ও ১৩ টি উপসূত্রে অন্তর্নিহিত ছিল।
ভাবতে অবাক লাগে যে সময় পৃথিবীর অধিকাংশে মানবসভ্যতার ছোঁয়া লাগেনি তখন ভারতবর্ষের বিভিন্ন আশ্রমে ঋষিগণ বিজ্ঞানের মহাযজ্ঞে নিমগ্ন।
বৈদিকযুগে মূলতঃ দশমিক পদ্ধতিতেই গণনাকার্য সম্পন্ন হত।যজুর্বেদ সংহিতায় প্রাপ্ত বিভিন্ন সংখ্যা যেমন অর্বুদ(১০০০০০০০), নর্বুদ(১০০০০০০০০), সমুদ্র(১০০০০০০০০০), পরার্ধ(১০০০০০০০০০০০০) থেকে জানা যায় যে বিশালায়তন সংখ্যার ধারণাও হিন্দু গণিতজ্ঞদের কল্পনাতীত ছিল না।সমসাময়িক কোনও জাতি সম্ভবত এত বৃহৎ সংখ্যা কল্পনা করতে সক্ষম ছিল না।নিম্নে বর্ণিত সংখ্যাপ্রবাহ দুটিকে লক্ষ্য করুনঃ
১,৩,৫,...,৯৯
২৪,৪৮,৯৬,১৯২,.........,৩৯৩২১৬
প্রথমটির নাম সমান্তর প্রগতি এবং দ্বিতীয়টির নাম গুণোত্তর প্রগতি।‘তৈত্তিরীয় সংহিতা’ ও ‘পঞ্চবিংশ ব্রাহ্মণ’ এ যথাক্রমে উপরোক্ত প্রগতিগুলির উল্লেখ পাওয়া যায়।এত গেলো পাটিগণিতের কথা।‘শতপথ ব্রাহ্মণ’ এ হিন্দুদের জ্যামিতিক জ্ঞানেরও পরিচয় পাওয়া যায়।বৈদিক যজ্ঞানুষ্ঠানে একটি অন্যতম উপকরণ ছিল ‘মহাবেদী’,যার আকৃতি হল সমদ্বিবাহু ট্রাপিজিয়াম।এই সমদ্বিবাহু ট্রাপিজিয়াম এর ক্ষেত্রফল এবং বাহু-উচ্চতার বিভিন্ন সম্পর্ক হিন্দুরা জানতেন।ঋণাত্মক রাশি সম্পর্কেও তারা অবগত ছিলেন।
উপরোক্ত ঘটনাবলীর সময়কাল আনুমানিক খ্রীষ্টপূর্ব ৬০০।এরপর প্রায় ১০০০ বৎসর গণিতের মৌলিক গবেষণার ক্ষেত্রে হিন্দুদের বিশেষ একটা অবদান লক্ষ্য করা যায় না।
এরপর আর্যভট্ট্‌, বরাহমিহির, ব্রহ্মগুপ্ত, ভাস্কর প্রমুখ মনীষীবৃন্দের কর্মালোকে হিন্দু গণিতশাস্ত্র আবার বিশ্বসভায় নিজের স্থান সুদৃঢ় করে তোলে।গণিতশাস্ত্রে হিন্দু মনীষীদের সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য অবদান হল দশমিক স্হানিক অঙ্কপাতন পদ্ধতি ও ‘শূন্য’ এর আবিষ্কার।অবশ্য এর আগে খ্রীষ্টপূর্ব ২০০ তে পিঙ্গলের ‘ছন্দসূত্রে’ শূন্যের ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়।
আর্যভট্ট রচিত ‘আর্যভটীয়’ নামক গ্রন্থে দ্বিঘাত প্রথম মাত্রার অনির্ণেয় সমীকরণের সমাধান ও π এর নির্ভুল মান এর উল্লেখ পাওয়া যায়।বর্গমূল নির্ণয়ের পদ্ধতিও আর্যভট্টের আবিষ্কার।
এসময়ের আরেকজন উল্লেখযোগ্য ব্যক্তি হলেন ব্রহ্মগুপ্ত।তিনি পিরামিড ফ্রাস্টাম এর আয়তন নির্নয় সম্পর্কিত সুত্র আবিষ্কার করেন।
যাঁর কথা না বললে এই লেখা অপূর্ণ থেকে যাবে তিনি হলেন ভাষ্কর।তাঁর লেখা বিখ্যাত গ্রন্থখানি হল চারখন্ডে সমাপ্ত ‘সিদ্ধান্ত শিরোমণি’।যার প্রথম ২টি খন্ড লীলাবতি ও বীজগণিত এ পাটীগণিত ও বীজগণিত এর বিভিন্ন বিষয় আলোচিত হয়েছে।“একটি ঋণাত্মক রাশিকে অপর একটি ঋণাত্মক রাশি দ্বারা গুণ করলে ধনাত্মক রাশি এবং একটি ঋণাত্মক ও অপর একটি ধনাত্মক রাশি গুণ করলে ঋণাত্মক রাশি পাওয়া যায়”, বীজগনিত এর এই সিদ্ধান্ত ভাষ্কর এর আবিষ্কার। গণিত এর ছাত্র মাত্রেই x=(-b±√(b^2-4ac))/2a সুত্রটি সম্পর্কে অবগত। এটি আবিষ্কারকের নাম শ্রীধর।দ্বিঘাত সমীকরণের মাত্রা নির্ণয়ের এই সুত্রটি ‘শ্রীধরাচার্যের উপপাদ্য’ নামে প্রচলিত।
ত্রিকোণমিতিতেও হিন্দুদের সাফল্য অনস্বীকার্য।বরাহমিহির ‘পঞ্চসিদ্ধান্তিকা’ গ্রন্থে sin30 ও sin 60 এর মান নির্ণয় করে দেখিয়েছেন। বর্তমান ত্রিকোণমিতিতে ব্যবহৃত মূল সূত্রগুলিও বরাহমিহির এর আবিষ্কৃত।এছারাও সে সময়ের গণিতজ্ঞদের মধ্যে উল্ল্যেখযোগ্যরা হলেন মহাবীর,শ্রীপতি প্রমুখ।